“নানা সংস্কার কমিশন হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষায় কোনো কমিশন হল না; আগের ধারাই চলছে”, বলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ।

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট বাজেটের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ ও জিডিপির কমপক্ষে ৩ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে গণসাক্ষরতা অভিযান।
রাজধানীতে সোমবার ‘বাজেট পূর্ববর্তী’ এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানায়।
শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থার এ মোর্চা ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা ও রোড ম্যাপ প্রণয়নেরও আহ্বান জানিয়েছে।
তারা প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মাসিক উপবৃত্তি ১৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার সুপারিশ করেছে। আর মাধ্যমিক পর্যায়ে চেয়েছে ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা।
রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকে গণসাক্ষরতা অভিযান।
সেখানে মোর্চার নির্বাহী পরিচালক ও এডুকেশন ওয়াচের সদস্য সচিব রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, “সব সময় শিক্ষাকে যুক্ত করে দেওয়া হয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বা অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে।
“গতবারও শিক্ষার বাজেটের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার বাজেট মূলত থাকে না। শিক্ষাকে স্বতন্ত্র খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “স্বতন্ত্র খাত হিসেবে শিক্ষায় মোট জিডিপির ৩ শতাংশ বরাদ্দ চাচ্ছি আমরা।”
সংবাদ সম্মেলনে গণসাক্ষরতা অভিযানের সুপারিশমালা তুলে ধরেন এডুকেশন ওয়াচের ফোকাল পয়েন্ট মোস্তাফিজুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে ‘যোগ্য গ্র্যাজুয়েটদের’ শিক্ষকতায় আগ্রহী করতে বেতন-ভাতা বাড়ানো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।
শিক্ষক নিয়োগে কমিশন গঠন ও মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে গণসাক্ষরতা অভিযান। আর অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করে প্রি-ভোকেশনাল শিক্ষা দেওয়ার কথাও বলেছে তারা।
জুলাই অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করার সুপারিশও করেছে গণসাক্ষরতা অভিযান। প্রাথমিকে সব শিক্ষার্থীর জন্য ‘মিড ডে মিল’ ব্যবস্থা করা ও ঝরে পড়া রোধে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাজেটে বরাদ্দ রাখার সুপারিশও করেছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কারে গঠিত পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক মনজুর আহমদও।
তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষা যে বৈষম্যের একটা বাহন এবং বৈষম্য থেকে উত্তরণের উপায় না হয়ে শিক্ষা যে বৈষম্য রক্ষার ব্যবস্থা হিসাবে চালু আছে, সেটা নিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে তেমন আলোচনা দেখলাম না।
“নানা সংস্কার কমিশন হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষা সংস্কারে কোনো কমিশন হল না। আগের ধারাই চলছে।”
মনজুর আহমদ বলেন, “আমরা সব সময় দাবি করেছি, সামগ্রিকভাবে শিক্ষা সংস্কারে কিছু করা দরকার। প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কিছু বাস্তবসম্মত সুপারিশ করেছিলাম। কিছু কিছু পদক্ষেপ দেখছি, তাও যেন মনে হচ্ছে খণ্ডিত।”
সিপিডির রিসার্চ ডিরেক্টর খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “বাংলাদেশে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর যে মাত্রায় এখান থেকে ফান্ড চলে যাবে, তাতে বাংলাদেশের যেসব এনজিও সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করে, তারা সবচেয়ে ক্রাইসিসে পড়বে। সিভিল সোসাইটির যারা সামাজিক খাতে যারা কাজ করছেন, তারা সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবেন।”