রাজ্যের সব শিম যেন ডুমুরিয়ায়!

1668932759.1.jpg

ব্যুরো এডিটর …
শীত শুরু হতে না হতেই শীতকালীন সবজির ভান্ডারে পরিণত খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা। এসব সবজির মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে শিম।
সেখানে ক্ষেতে শিম, জমির আইলে শিম, এমনকি মাছের ঘেরের মাচায় দুলছে থোকায় থোকায় শিম। বাদ যায়নি সড়কের দুপাশও। হাত বাড়ালেই মুঠোয় ভরে নেওয়া যাবে শিম।
এমন পরিস্থিতিতে যে, রাজ্যের সব শিম যেন এই ডুমুরিয়ায়!
মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি শিম বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে ডুমুরিয়ার চাষিরা শিম আবাদ করেছেন।
চাষিরা সফলও। শিম বেচে ভালো দাম পাচ্ছেন তারা। চাষিদের মুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক।
ক্ষেত থেকে শিম আহরণ করে বাছাই করছেন চাষিরা
জানা গেছে, বিগত কয়েক যুগ ধরেই ডুমুরিয়ার বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে শীতকালীন এই সবজি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন শিমের চাষ বংশ পরম্পরায় ঝুঁকছেন এই এলাকার চাষিরা, বাড়াচ্ছেন চাষের জমি।
রোববার ডুমুরিয়ার খর্নিয়ার বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকপ্রাপ্ত দেশ সেরা সবজি চাষি আবু হানিফ মোড়ল বলেন, মাছের ঘেরের আইলসহ ৩ বিঘা জমিতে এবার শিম চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। ক্ষেতের শিম ইতোমধ্যে পুরোদমে বিক্রিও শুরু হয়েছে।
এই সবজিচাষি জানান, ডুমুরিয়া উপজেলায় শিমের ফলন এবার খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বেশি। কৃষকরা বাজারে ন্যায্য দাম পেয়ে বেজায় খুশি।
প্রতিদিন এই উপজেলার কৃষকেরা ১০০ কোটি টাকার শিম বিক্রি করছেন বলে দাবি করলেন তিনি।
বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানালেন শোভনা ইউনিয়নের মলমলিয়া গ্রামের শিম চাষি কামাল বাওয়ালি।
বাংলানিউজকে তিনি বলেন, মাছের ঘেরের আইলে চার বিঘা জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ করা হয়েছে। প্রথমদিকে পাইকারি কেজি বিক্রি করেছি ১২০ টাকা দরে। এখন ২৫ টাকা দরে বিক্রি করছি।
গুটুদিয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের শিম চাষি মিঠুন সরকার বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে এবার শিম চাষ করেছি। ইতিমধ্যে গাছে শিম ধরতে শুরু করেছে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।
এবার ৩৫ হেক্টর বেশি জমিতে শিম চাষ করা হয়েছে বলেন জানালেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.ইনসাদ ইবনে আমিন।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, খুলনা জেলার সবচেয়ে বেশি শিম উৎপাদন হয়েছে ডুমুরিয়ায়। এবার এখানে ২৯৫ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে । যা গত বছর ছিল ২৬০ হেক্টর। শিমের বাম্পার ফলনও হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। ভালো উৎপাদনের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top