মধুমতি সেতু: কমছে দূরত্ব, বাড়ছে সম্ভাবনা

1665407464.webp

ব্যুরো এডিটর…
দীর্ঘ অপেক্ষার পর নড়াইলের লোহাগড়ার কালনা পয়েন্টে নির্মিত দেশের প্রথম ছয় লেনের দৃষ্টিনন্দন মধুমতি সেতুর দ্বার খুলেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি সেতু উদ্বোধনের পর ভীষণ উচ্ছ্বাসিত দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ।

বহুল প্রত্যাশিত এ সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করলেন শেখ হাসিনা।
এ সেতু চালুর মধ্য দিয়ে খুলনা তথা দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। এ সেতুর কল্যাণে সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। উদ্যোক্তারা এ অঞ্চলে বিনিয়োগের ডালা খুলে বসবেন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে গত ২০০৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নড়াইলের সুলতান মঞ্চে নির্বাচনী জনসভায় কালনা ঘাটে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুত দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনা ‘কালনা সেতু’ নামকরণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে কালনা সেতুর নাম পরিবর্তন করে নদীর নামে ‘মধুমতি সেতু’ নামকরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু পার হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রবেশদ্বার হবে কালনাঘাটের মধুমতি সেতু। এ সেতুর পূর্ব পাড়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা শংকরপাশা ও পশ্চিম পাড়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কালনা। শংকরপাশা গোপালগগঞ্জ জেলা সীমান্তের গ্রাম। আর কালনা নড়াইল জেলা সীমান্তের গ্রাম। দুই জেলার সীমান্তে নির্মিত সেতুটি ঢাকার সঙ্গে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ করে দিয়েছে।

মধুমতি সেতু চালু হওয়ায় শুধু জাতীয় ক্ষেত্রে নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। ভারতের কলকাতা, আসামসহ দেশের মধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর, বেনাপোল ও নোয়াপাড়া নদীবন্দরের মধ্যে যোগাযোগের মাইলফলক রচিত হবে।

ব্যবসায়িক নেতারা বলছেন, মধুমতি সেতু চালুর ফলে বেনাপোল স্থলবন্দর, মোংলা সমুদ্রবন্দর ও নওয়াপাড়া নদী বন্দরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুগুণ বাড়বে। যোগাযোগ, পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন, এমনকি পর্যটনে আসবে গতি, যা থেকে তৈরি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান, কমবে দারিদ্র্য। অর্থনীতির পালে লাগবে নতুন হাওয়া। একইসঙ্গে এ সেতুর কারণে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল, যশোর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ভ্রমণের সময়ও কমিয়ে দেবে। মোংলা সমুদ্র বন্দর ও নোয়াপাড়া নদী বন্দরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুগুণ বাড়বে। এতে এ অঞ্চলের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও বহু কাঙ্ক্ষিত মধুমতি সেতু চালু হওয়ায় আনন্দ উচ্ছ্বাসে ভাসছে দক্ষিণাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ। সেতুটি চালুর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে নড়াইল, বেনাপোল, যশোর, খুলনা, মোংলা, সাতক্ষীরাসহ আশপাশের সড়ক পথের দূরত্ব ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে যাবে। ঢাকার সঙ্গে সহজ যাতায়াত প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাড়বে শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগ। গতি পাবে নগরায়ণ। কৃষিতে আসবে নতুন বিপ্লব। বাড়বে কর্মসংস্থান। বিকশিত হবে পর্যটন।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুর পর এবার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের আরও একটি স্বপ্ন পূরণ হলো নড়াইলের কালনা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। আর এ সেতু চালু হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে। উৎপাদিত কৃষি পণ্য ঢাকাতে নিয়ে যাওয়া-আসাতেও সময় কমবে অনেক। দক্ষিণের জেলার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন ক্ষেত্রে নতুন অর্থনীতিক দ্বার উন্মোচন হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।

যশোরের নাগরিক নেতা ইকবাল কবীর জাহিদ বাংলানিউজকে বলেন, মধুমতি সেতুটি চালুর মাধ্যমে কালনা ফেরিঘাটের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি চিরদিনের জন্য অবসান ঘটলো। এ অঞ্চলের মানুষ কম সময়ে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ায় দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে চলাচলকারীদের। ফলে সহজেই দ্রুত সময়ে নড়াইল, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সংকীর্ণ ৫২ কিলোমিটার সড়ক। মধুমতি সেতু চালু হলে রাজধানী থেকে সড়ক পথে দক্ষিণ-পশ্চিমের দূরত্ব কমলেও দুর্ঘটনার মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকবে নড়াইলের কালনা থেকে যশোরের মনিহার পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার সড়কে। মধুমতি সেতুর সুফলের চেয়ে যানজট আর ভোগান্তি নিয়ে যানবাহন চলাচল করবে ১৮ ফুট প্রশস্ত এক লেনের সড়কে। এ সময়ের দাবি এসব সংকীর্ণ সড়কগুলো প্রশস্ত করা।

নড়াইল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, মধুমতি সেতুর ফলে ঢাকার সঙ্গে নড়াইলের ৮৬ কিলোমিটার পথের দূরত্ব কমলো। কালনা সেতু থেকে মনিহার সিনেমা হল পর্যন্ত ১৮ ফুটের রাস্তা ২৪ ফুটের রাস্তা করা ওয়ার্ক ওয়ার্ডার হয়ে গেছে। ঠিকাদার নিয়োগও হয়ে গেছে। খুব দ্রুত এ রাস্তাটি আমরা ৬ লেনে উন্নীত করবো।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top